রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য আলী হোসেন সৌরভকে (১৯) পিটিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িতরা ধরা ছোয়ার বাহিরে পুলিশ বলছে আসামিদের পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সৌরভের বাবা বলছেন আসামিদেরকে এলাকাতেই ঘোরা ফেরা করতে দেখা যাচ্ছে।
চাঁদাবাজীর প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা গত ২ নভেম্বর রাতে সৌরভকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে হাসপাতালের সামনে ফেলে ফেলে যায়। হাসপাতালে ভর্তির আগেই তার মৃত্যু হয়। সৌরভ টিএমএসএস টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী ছিল। তিনি বগুড়া সদরের ঠেঙ্গামারা গ্রামের ট্রাক চালক আব্দুল মমিন সাকিদারের ছেলে।
সৌরভের সহপাঠীরা জানায়, জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে সৌরভের অংশগ্রহণ ছিল।সক্রিয় ৫ আগস্ট পট পরিবর্তন হলে এলাকায় নতুন কিছু চাঁদাবাজের আবির্ভাব ঘটে । তারা বিভিন্ন ছাত্রাবাসে চাঁদা আদায় শুরু করে। সৌরভ চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করে। একারণে তার ওপর ক্ষুদ্ধ হয় স্থানীয় চাঁদাবাজরা। গত ২ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সৌরভকে ডেকে নিয়ে যায় ওই চাঁদাবাজেরা। আধাঘণ্টা পর তারাই মোবাইল ফোনে খবর দেয় সৌরভ গুরুতর অসুস্থ। ওই চাঁদাবাজেরাই মোটরসাইকেলযোগে সৌরভকে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে রেখে পালিয়ে যায়।
সৌরভের বাবা মমিন সাকিদার বলেন, হাসপাতালের সামনে ট্রেচারে আমার ছেলেকে মৃত অবস্থায় পাই। সৌরভের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ফোলা জখম ছিল। পরে পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরদিন ছয় জনের নামে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করি। এরপর বারবার থানায় ঘুরলেও পুলিশ বলছে আসামিদের পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আসামিদেরকে রাতের বেলা এলাকায় মোটরসাইকেলে ঘুরতে দেখা যায়।
সৌরভের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া রিফাত এবং মেহরাজ বলেন, সৌরভ ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্রাবাসে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করে আসছিলেন। যার কারণে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তারা বলেন আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে আমরা এলাকায় মানববন্ধন করেছি। আসামিদের ছবি দিয়ে পোস্টারিং করেছি। কিন্তু পুলিশ আসামি গ্রেফতারে তৎপর দেখা যাচ্ছে না।