রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ০২:৫২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের জন্য জরুরি সুরক্ষার প্রয়োজন ধানমন্ডিতে দস্যুতার ঘটনায় আলামতসহ তিনজন গ্রেফতার গুলিস্তানে চোরাই মোবাইল চক্রের দশ সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার: উদ্ধার ১০৩টি ফোন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী কর্তৃক ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে হামলার ভিডিওটি গুজব SAHR প্রতিনিধিদলের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ গণ অধিকার পরিষদের রাশেদ খান নুর এর ওপর হামলাকারীর পরিচয় জানালেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দুই প্রতিনিধি বুয়েট শিক্ষার্থী শাদিদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন খাদ্য, পানি, বায়ু ও প্রকৃতি সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হতে ০২টি বিদেশী পিস্তল, ০২টি বিদেশী রিভলবার এবং ১০ রাউন্ড গুলিসহ ০৬ (ছয়) জন অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২

সাংস্কৃতির অঙ্গনের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব সানজিদা খাতুন এর মৃত্যুতে শোকবার্তা এবং দোয়া উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ

আলী আহসান রবি - স্টাফ রিপোর্টার / ৫০ পাঠক
প্রকাশকাল রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ০২:৫২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের সাংস্কৃতির অঙ্গনের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব সানজীদা খাতুন এর প্রয়াণে আমরা শোকাহত। গত ২৫ মার্চ ২০২৫ (মঙ্গলবার ) সাংস্কৃতিক ও শিক্ষার দেশীয় ধারার এই সাধক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে উন্মেষ ও বিকাশ, সানজীদা খাতুন ছিলেন সেই স্রোতধারার সাহসী সৈনিক। রবীন্দ্র জন্মশত বার্ষিকী পালনে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বাধাদান পরবর্তী সাংস্কৃতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে ‘ছায়ানট’ গঠিত হলো, সানজীদা খাতুন তার সাথে যুক্ত হলেন। আবৃত্তি, অভিনয়, গানচর্চার পাশাপাশি থেকে সাংস্কৃতিক সংগ্রামের সাথে তার সম্পৃক্ততা ও সক্রিয়তার শুরু। দেশের শিল্পী, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদদের অনেকেই যখন রাজনীতিতে সকলের অংশগ্রহণের বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছিলেন, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সানজীদা খাতুন সংগীত চর্চাকেই মূখ্য বলে গণ্য করেছেন। ১৯৬৭ সালের পহেলা বৈশাখের প্রথম অনুষ্ঠান রবীন্দ্রনাথের এসো হে বৈশাখ ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ যখন দর্শকের কাছে উৎসবের আনন্দময় প্রকাশ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেল, গান ও সুরের প্রতি সানজীদা খাতুনের পক্ষপাত, সেদিন থেকে সাংস্কৃতিক উদযাপনে নতুন মাত্রা যোগ করল। উল্লেখ্য যে, ছায়ানট শুরুতে পল্লীগীতি ও গণসংগীতকেও জনপ্রিয় করে তোলার তাগিদে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। নজরুলের কবিতা ও গান সেই সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অভিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। ছায়ানটের একজন সংগঠক হিসেবে সানজীদা খাতুন এক পর্যায়ে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সঞ্জীবিত করবার পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনে মানবিক চেতনার বিকাশের কথা ভাবতে শুরু করেন । তাঁর উদ্যোগ যে বিদ্যায়তনের জন্ম হয়, তার পেছনে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা বিষয়ক চিন্তা যেমন অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে, তেমনই জার্মান স্পিরিচুয়ালিস্ট রুডল্ফ স্টেইনারের শিশুশিক্ষা ও শিশুর বিকাশ সংক্রান্ত ভাবনা অনায়াসে যুক্ত হয়েছে। তার নাম আমাদের সংস্কৃতির একটি বিশেষ অধ্যায়ের সাথে সম্পর্কিত। একাত্তরের সাংস্কৃতিক প্রস্তুতি পর্বে এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে সংগীতের বিকাশ, এই দুই পর্বের তিনি মহীরুহ।
তাঁর মৃত্যুতে জাতির যে অপূরণীয় ক্ষতি, তার প্রেক্ষিতেই তাঁর অবদানের মূল্যায়নের শুরু হতে হবে। তিনি যেভাবে এদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করুন, এই দোয়া কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *