রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
ধানমন্ডিতে দস্যুতার ঘটনায় আলামতসহ তিনজন গ্রেফতার গুলিস্তানে চোরাই মোবাইল চক্রের দশ সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার: উদ্ধার ১০৩টি ফোন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী কর্তৃক ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে হামলার ভিডিওটি গুজব SAHR প্রতিনিধিদলের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ গণ অধিকার পরিষদের রাশেদ খান নুর এর ওপর হামলাকারীর পরিচয় জানালেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দুই প্রতিনিধি বুয়েট শিক্ষার্থী শাদিদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন খাদ্য, পানি, বায়ু ও প্রকৃতি সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হতে ০২টি বিদেশী পিস্তল, ০২টি বিদেশী রিভলবার এবং ১০ রাউন্ড গুলিসহ ০৬ (ছয়) জন অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২ রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হতে ০২টি বিদেশী পিস্তল, ০২টি বিদেশী রিভলবার এবং ১০ রাউন্ড গুলিসহ ০৬ (ছয়) জন অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২

শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ: শ্রম জগতের রূপান্তর অভিযাত্রায় অংশগ্রহণ, ভূমিকা ও করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা

মোঃ সিকান্দার আলী / ৮০ পাঠক
প্রকাশকাল রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

অদ্য ২৮ জুলাই, ২০২৫, সোমবার ঢাকার ধানমণ্ডিতে ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ- বিলস এর উদ্যোগে শ্রম সংস্কার কমিশন-২০২৪ এর সুপারিশ ‘শ্রমজগতের রূপান্তর-রূপরেখা’ বাস্তবায়নে করণীয় বিষয়ে নারী অধিকার সংগঠন, জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনসমূহের নারী নেতৃবৃন্দ এবং তৈরি পোশাক খাতের ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনসমূহের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক নেতা বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন—এর সভাপতি এবং বিলস এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিল্‌স-এর যুগ্ম মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক এবং শ্রম সংস্কার কমিশন- ২০২৪ এর প্রধান জনাব সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ। প্রথম পর্বে সভা সঞ্চালনা করেন বিলস-এর পরিচালক জনাব কোহিনূর মাহমুদ এবং দ্বিতীয় পর্বে সঞ্চালনা করেন বিল্‌স-এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নইমুল আহসান জুয়েল। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিশন—২০২৪ এর সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, আনোয়ার হোসেন এবং সাকিল আখতার চৌধুরী। সভায় কমিশনের প্রতিবেদনের সুপারিশের সংক্ষিপ্তসার উপস্থাপন করেন এডভোকেট নজরুল ইসলাম।
সভায় দেশের খ্যাতনামা নারী অধিকার সংগঠন, জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নারী নেতৃবৃন্দ এবং তৈরি পোশাক খাতের ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনসমূহের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সভায় বক্তাগণ কমিশনের সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি, বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণে জাতীয় পর্যায়ে একটি প্লাটফরম তৈরি, সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে সুপারিশের বিষয়বস্তু অবহিতকরণের জন্য মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো এবং সরকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

সভায় প্রতিনিধিগণ কমিশনের প্রতিবেদনের নারী বিষয়ক সুপারিশসমূহ নিয়ে মাঠ পর্যায়ের শ্রমিকদের মাঝে প্রচার এবং প্রসারের আহবান করেন। অনেকেই জানান, কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হবার পর তারা গৃহশ্রমিকের ডেটাবেজ তৈরি শুরু করেছেন।

রাজেকুজ্জামান রতন প্রস্তাব করেন যে, শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নারী শ্রমিক ও নারী অধিকারকর্মীদের একটি কনভেনশন আয়োজন করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, কমিশনের সুপারিশসমূহ বুকলেট আকারে একটি “গাইড টু অ্যাকশন” হিসেবে বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, কমিশনের কার্যক্রমের জন্য মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করে এবং যারা কমিশনের কাছে সুপারিশ জমা দিয়েছে তাদের অবদান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, মাঠপর্যায়ে সমস্যাগুলো এখনো প্রকট রয়ে গেছে—যেমন, সিটি কর্পোরেশনের অস্থায়ী নারী কর্মীরা এখনো মাতৃত্বকালীন ছুটি পান না। আমাদের মধ্যবিত্ত কাঠামোর মধ্যে এখনও বৈষম্য বিরাজমান, এবং সমস্যাগুলো যেমন বিভক্ত, তেমনি আমাদের শক্তিও বিভক্ত।

তিনি জোর দেন, সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সকল অংশীজনকে একত্র হয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কয়েকটি সংগঠন মিলে নারী অধিকার বিষয়ক যে দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরে তুলে আসছে, তা কমিশনের সুপারিশের মাধ্যমেই একটি স্বীকৃতি পেয়েছে। এই সুপারিশগুলোকে মূল দাবিসমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই। বরং নারী শ্রমিকদের হাজার বছরের বন্ধন, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে কাজ শুরু করতে হবে। কমিশন শুধু দাবিগুলোকে একত্র করেছে—কাজের দায় কিন্তু আমাদের সবার। আমাদের নারীদের বৈষম্য এবং হয়রানির প্রতি যে আবেগ ও দায়বদ্ধতা আছে, তা কাজে লাগিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, সকলের অভিমত, দাবি ও কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটিয়ে পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলেই আমাদের লক্ষ্য পূরণ এবং কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তিনি সকল অংশীজনকে একত্র করে একটি যৌথ ফোরাম গঠনের আহ্বান জানান এবং কমিশনের সুপারিশসমূহ ব্যাপকভাবে প্রচার করার জন্য সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *