সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সকলের জন্য জাতীয় প্রাথমিক সতর্কতা (EW4All) রোডম্যাপ এর যাত্রা শুরু করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান হুমকি থেকে প্রতিটি নাগরিককে রক্ষা করার লক্ষ্যে এই সামগ্রিক কৌশলটি একটি মানুষ-কেন্দ্রিক, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াবিশিষ্ট (end-to-end), বহু-বিপদজনক প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে।
ঢাকায় এক উচ্চ-পর্যায়ের কর্মশালায় এই রোডম্যাপের উন্মোচন করা হয়, যেখানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত প্রধান অতিথি ও উপদেষ্টা জনাব ফারুক ই আজম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং বেসরকারি সংগঠনগুলো উপস্থিত ছিলেন। বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাবা লিখেমান জেসি উ৫ লসন পার্টমেন্ট সুইডেনের মাননীয় রাষ্ট্রদূত জনাব নিকোলাস উইকস; বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী; বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব জনাব কবির মো. আশরাফ আলম, আইএফআরসি-র প্রতিনিধি দলের প্রধান (হেড অব ডেলিগেশন) জনাব আলবার্তো বোকানেগ্রা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং FbF/A টাস্ক ফোর্সের আহ্বায়ক জনাব কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব এবং EW4AII-এর জাতীয় ফোকাল পয়েন্ট জনাব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন। এছাড়াও সকল স্তম্ভের নেতৃত্বদানকারী সংস্থা এবং উন্নয়ন অংশীদারদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সকলে এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচির প্রতি তাদের সংস্থার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. মোস্তফিজুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত প্রধান অতিথি ও উপদেষ্টা জনাব ফারুক ই আজম বলেন, “প্রাথমিক সতর্কতা কোনো বিলাসিতা নয়-এটি একটি জীবনরক্ষাকারী সূত্র। প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতি থেকে পূর্বাভাস ও প্রতিরোধমূলক সংস্কৃতিতে উত্তরণের জন্য এটি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।” তিনি আরও বলেন, ‘এই রোডম্যাপ কেবল একটি পরিকল্পনা নয়; এটি এই জাতির মানুষের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি।”
জাতিসংঘ মহাসচিব কর্তৃক COP27-এ চালু করা বৈশ্বিক EW4AI। উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ প্রথম ৩০টি দেশের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। সরকারি সংস্থা, জাতিসংঘের অংশীদার এবং প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের সাথে দুই বছরের ব্যাপক পরামর্শের মাধ্যমে এই জাতীয় রোডম্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রমাণিত সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে এটি গড়ে উঠেছে।
রোডম্যাপটি চারটি গুরুত্বপূর্ণ ভন্তের চারপাশে গঠন করা হয়েছে:
১. দুর্যোগ ঝুঁকি সম্পর্কে জ্ঞান
২. বিপদ সনাক্তকরণ, পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং পূর্বাভাস
৩ সতর্কতা প্রচার ও যোগাযোগ
৪. প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. মোস্তফিজুর রহমান এই উদ্যোগের সহযোগিতামূলক প্রকৃতির উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আমাদের সামনে থাকা এই নথিটি কোনো একক সত্তার উৎপাদন নয়; এটি আমাদের সকল অংশীদারের সম্মিলিত জ্ঞান, দক্ষতা এবং নিষ্ঠার সারসংক্ষেপ।”
এই যাত্রা শুরু পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান্তর চিহ্নিত করে। সরকার প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ইচ্ছা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, একই সাথে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং টেলিযোগাযোগ ও গণমাধ্যম খাতের কাছে তাদের নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে সতর্কতা সবচেয়ে দূরবর্তী সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে সামনের সারিতে থাকা দেশ বাংলাদেশে জীবন ও জীবিকা রক্ষায় জাতীয় EW4AII রোডম্যাপটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।