রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
গুলিস্তানে চোরাই মোবাইল চক্রের দশ সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার: উদ্ধার ১০৩টি ফোন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী কর্তৃক ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে হামলার ভিডিওটি গুজব SAHR প্রতিনিধিদলের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ গণ অধিকার পরিষদের রাশেদ খান নুর এর ওপর হামলাকারীর পরিচয় জানালেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দুই প্রতিনিধি বুয়েট শিক্ষার্থী শাদিদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন খাদ্য, পানি, বায়ু ও প্রকৃতি সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হতে ০২টি বিদেশী পিস্তল, ০২টি বিদেশী রিভলবার এবং ১০ রাউন্ড গুলিসহ ০৬ (ছয়) জন অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২ রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হতে ০২টি বিদেশী পিস্তল, ০২টি বিদেশী রিভলবার এবং ১০ রাউন্ড গুলিসহ ০৬ (ছয়) জন অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২ কাকরাইলের পরিস্থিতি নিয়ে আই এস পি আর এর বিবৃতি

‘ক্ষমতার জোরে’ টিকে আছেন ফজলুল্লাহ চট্টগ্রাম ওয়াসায়

মোঃ সিকান্দার আলী / ২৯২ পাঠক
প্রকাশকাল রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘ ১৪ বছর যাবত চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে দায়িত্ব পালন করছেন এ কে এম ফজলুল্লাহ। কিন্তু তাঁর আমলে পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশনের জন্য একের
পর প্রকল্প নেওয়া হলে ও কোনোটিই তিনি নির্ধারিত সময়ে পারেননি শেষ করতে । ব্যয় বাড়ানো হয়েছে দফায় দফায়।

পানি চুরির অভিযোগ ওরয়েছে তার নামে, বছরের পর বছর দাম বাড়ানো, অপচয় কমাতে না পারা ও দুর্নীতির অভিযোগ আসায় বারবার সমালোচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ ৮১ বছর বয়সী এই প্রকৌশলী। কিন্তু ‘ক্ষমতার জোরে’ এখনো তিনি টিকে আছেন। গত বছরের আগস্টে তাঁকে অষ্টমবারের মতো এমডি পদে নিয়োগ দেয় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকার।

১৯৪২ সালে জন্ম নেওয়া এ কে এম ফজলুল্লাহ চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে অবসর নেন ২০০০ সালে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ৬ জুলাই প্রথমবার চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে এক বছরের জন্য নিয়োগ পান। এরপর আরও এক বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে ঢাকা ওয়াসার আদলে চট্টগ্রাম ওয়াসাতেও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ তৈরি করা হয়। ওয়াসা বোর্ডও পুনর্গঠন করা হয়। তখন এমডি পদে নিয়োগ পান তৎকালীন চেয়ারম্যান এ কে এম ফজলুল্লাহ। সেই থেকে এমডি পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

ওয়াসার বর্তমান ও সাবেক দুই বোর্ড সদস্য বলছেন, এ কে এম ফজলুল্লাহর সঙ্গে বিগত সরকারের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁদের নানাভাবে কাজে লাগিয়ে তিনি বছরের পর বছর এই পদে ছিলেন। এ ছাড়া ওয়াসা বোর্ডও তাঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এ কে এম ফজলুল্লাহ ওয়াসার আলোচিত কর্মকর্তা। তাঁর আমলে পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তুলতে অন্তত ১০টি প্রকল্প নেওয়া হয়। আটটি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। দুটি বড় প্রকল্পের কাজ এখনো চলছে। শেষ হওয়া আট প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। আর চলমান দুই প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৫ হাজার ৮০২ কোটি টাকা। একের পর এক প্রকল্প নিলেও নগরে পানির সংকট কাটেনি। প্রকল্পের সুফল নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

ওয়াসার বর্তমান ও সাবেক দুই বোর্ড সদস্য বলছেন, এ কে এম ফজলুল্লাহর সঙ্গে বিগত সরকারের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁদের নানাভাবে কাজে লাগিয়ে তিনি বছরের পর বছর এই পদে ছিলেন। এ ছাড়া ওয়াসা বোর্ডও তাঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তাঁকে নিয়ে যত বিতর্ক

নিজের বেতন-ভাতা বাড়ানোর আবদার করে এ কে এম ফজলুল্লাহ সমালোচিত হয়েছিলেন। ওয়াসার নথিপত্র অনুযায়ী, এ কে এম ফজলুল্লাহর মূল বেতন নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, আপ্যায়ন, বিশেষ ভাতাসহ মিলিয়ে মোট পান ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা, যা ২০১৬ সালের মে মাস থেকে কার্যকর হয়।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি একলাফে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা বা ১৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির আবেদন করেছিলেন। অর্থাৎ মোট সাড়ে চার লাখ টাকা মূল বেতন চেয়েছিলেন। এ আবেদনের পর বোর্ড সদস্যরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। পরে সমালোচনার মুখে তিনি বেতন বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাহার করে নেন।

ওয়াসার বোর্ড সদস্য, কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা বলছেন, কোনো সমালোচনাকেই পাত্তা দেন না এমডি। আফ্রিকার দেশ উগান্ডার বেশির ভাগ মানুষ নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত। সেখানে উন্নত পয়োনিষ্কাশন–সুবিধা নেই। অথচ এমডির আমলেই ৪১ কর্মকর্তা-কর্মচারী উগান্ডায় প্রশিক্ষণের জন্য গিয়েছিলেন। এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও গায়ে মাখেননি কেউ।

সূত্র জানায়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বন্ধের বিষয়ে ২০২২ সালের ১২ মে পরিপত্র জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু ওই নির্দেশনা আসার পরও এমডিসহ চার কর্মকর্তা প্রশিক্ষণের নামে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। এ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। এ ছাড়া গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সময়ে তিনি তুরস্ক, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সফরে গেছেন। কখনো প্রশিক্ষণ, কখনো পরিদর্শনের কাজে সফর করেন তিনি।

দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে এ কে এম ফজলুল্লাহ সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি অবৈধভাবে একটা টাকাও আয় করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করেও কোনো অনিয়ম পায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *