শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন, এর আগে সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়, আদালতে উপস্থিত হয়ে কলিমউল্লাহ দাবি করেন, শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন দীপু মনি তার অন্যায় আবদার রাখতে বাধ্য করতেন আমাকে,
দুদকের দায়ের করা মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে, অন্য আসামিরা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু এবং এম এম হাবিবুর রহমান।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে নির্ধারিত ডিপিপি (Development Project Proposal) উপেক্ষা করে নকশা পরিবর্তন করেছেন। এছাড়া, ৩০ কোটি টাকার বেশি চুক্তি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই সম্পাদন করেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারের রানিং বিল থেকে কেটে রাখা নিরাপত্তা জামানতকে এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রসিদ) আকারে ব্যাংকে জমা রেখে সেই এফডিআর গ্যারান্টার হয়ে ঠিকাদারকে ঋণ গ্রহণে সহযোগিতা করেন অভিযুক্তরা, এতে করে সরকারের চার কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
এছাড়া, কোনো নিয়ম না থাকলেও ঠিকাদারকে অগ্রিম বিল দেওয়া হয়, এবং বিল সমন্বয়ের আগেই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করে দেওয়া হয়, প্রথম পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ডিজাইন না মেনে আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, টেন্ডারে অস্বাভাবিক হারে মূল্য দাখিল (ফ্রন্ট লোডিং) থাকলেও তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি, যা সরকারি ক্রয় আইন লঙ্ঘনের শামিল,
মামলার পর দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে কলিমউল্লাহসহ পাঁচ আসামির বিদেশ গমনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত,
সাবেক উপাচার্যের গ্রেপ্তার এবং আদালতের রায়ের পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনার ঝড়, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় জবাবদিহির বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে।